প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন এখন আর শুধু অনুষ্ঠান দেখার যন্ত্র নয়। সিনেমা, নাটক, খেলা কিংবা খবর দেখার পাশাপাশি স্মার্ট টিভির মাধ্যমে ইউটিউব, বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, গান, গেমিং এবং ইন্টারনেটভিত্তিক নানা সেবা উপভোগ করা যায়। ফলে ঘরের বিনোদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হয়ে উঠেছে স্মার্ট টিভি। বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল, স্ক্রিন সাইজ ও দামের অসংখ্য স্মার্ট টিভি পাওয়া যায়। একই আকারের দুটি টিভির দামেও বেশ পার্থক্য থাকতে পারে। তাই শুধু বড় স্ক্রিন বা কম দাম দেখে টিভি কেনা ঠিক নয়। কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করলে আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক টিভি বেছে নেওয়া সহজ হবে।
স্মার্ট টিভি কেনার সময় প্রথমেই ভাবতে হবে স্ক্রিনের আকার নিয়ে। ঘরের আকার এবং টিভি দেখার দূরত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিন নির্বাচন করা উচিত। ছোট ঘরের জন্য ৩২ বা ৪৩ ইঞ্চির টিভি যথেষ্ট হতে পারে। তুলনামূলক বড় ঘর বা দূর থেকে দেখার ক্ষেত্রে ৫০, ৫৫ কিংবা ৬৫ ইঞ্চির স্ক্রিন বেশি উপযোগী। শুধু বড় স্ক্রিন মানেই ভালোÑ এমন ধারণা ঠিক নয়। খুব কাছ থেকে বড় স্ক্রিন দেখলে চোখে অস্বস্তি হতে পারে। আবার বড় ঘরে ছোট স্ক্রিন ব্যবহার করলে দেখার আনন্দ কমে যেতে পারে। তাই কেনার আগে টিভিটি কোথায় বসানো হবে এবং সাধারণত কত দূর থেকে দেখা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
রেজল্যুশন কত হওয়া উচিত
ছবির মান নির্ধারণে রেজল্যুশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে এইচডি, ফুল এইচডি এবং ফোরকে আল্টা এইচডি রেজল্যুশনের টিভি পাওয়া যায়। বড় স্ক্রিনের ক্ষেত্রে ফোরকে রেজল্যুশন নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে ছবিতে বেশি ডিটেইল ও স্বচ্ছতা পাওয়া যায়।
তবে শুধু ফোরকে লেখা থাকলেই ছবির মান অসাধারণ হবেÑ এমন নয়। ডিসপ্লের মান, প্রসেসর, এইচডিআর এবং প্যানেলের প্রযুক্তিও ছবির গুণমানের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই টিভি কেনার সময় এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এলইডি, কিউএলইডি নাকি ওএলইডি?বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তির টিভি বাজারে রয়েছে। সাধারণ এলইডি টিভি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভালো। কিউএলইডি প্রযুক্তির টিভিতে উজ্জ্বলতা ও রঙের মান উন্নত হতে পারে। অন্যদিকে ওএলইডি টিভি সাধারণত গভীর কালো, উচ্চ কনট্রাস্ট এবং উন্নত ছবির অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তবে উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তির সঙ্গে দামও বাড়তে পারে। তাই নিজের বাজেট ও ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করা উচিত।
রিফ্রেশ রেট বিবেচনা করুন
টিভির রিফ্রেশ রেট সাধারণত এইচজেট দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ৬০ এইচজেট সাধারণ টেলিভিশন দেখা, ইউটিউব বা সিনেমার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে খেলাধুলা, দ্রুতগতির ভিডিও কিংবা গেমিংয়ের ক্ষেত্রে বেশি রিফ্রেশ রেট সুবিধা দিতে পারে।
এইচডিআর সাপোর্ট আছে কি না দেখুন
এইচডিআর ছবির উজ্জ্বল ও অন্ধকার অংশের মধ্যে বেশি পার্থক্য এবং উন্নত রঙ প্রদর্শনে সাহায্য করতে পারে। এইচডিআর টেন, এইচডিআর টেন প্লাস কিংবা ডলবি ভিশন -এর মতো প্রযুক্তি বিভিন্ন টিভিতে দেখা যায়। তবে এইচডিআর সাপোর্ট থাকলেই সব কনটেন্টের সুবিধা পাওয়া যাবে না। কনটেন্ট ও স্ট্রিমিং সার্ভিসেও এইচডিআর দেখা যায়। তাই টিভি কেনার আগে কোন কোন এইচডিআর ফরম্যাট দেখা যায় কি না সেটি দেখে নেওয়া ভালো।
অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ
স্মার্ট টিভির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ এর অপারেটিং সিস্টেম। গুগল টিভি বা অ্যান্ড্রয়েড টিভি বিভিন্ন প্লাটফর্মের স্মার্ট টিভি বাজারে পাওয়া যায়। কেনার আগে দেখে নিন আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ওই প্লাটফর্মে পাওয়া যায় কি না। টিভির ইউজার ইন্টারফেস কতটা সহজ, অ্যাপ চালু হতে কতটা সময় লাগে এবং ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি নাÑ এসবও লক্ষ্য রাখা উচিত।
র্যাম ও স্টোরেজ
স্মার্ট টিভিতে র্যাম ও স্টোরেজও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত র্যাম থাকলে অ্যাপ চালানো ও একাধিক কাজের ক্ষেত্রে টিভি তুলনামূলক স্মুথভাবে কাজ করতে পারে। স্টোরেজ কম হলে বেশি অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে শুধু স্টোরেজের সংখ্যা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। টিভির প্রসেসর, অপারেটিং সিস্টেমের অপ্টিমাইজেশন এবং সফটওয়্যারও পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে।
এইচডিএমআই ও ইউএসবি পোর্ট
টিভিতে ভবিষ্যতে গেম কনসোল, সাউন্ডবার, সেট-টপ বক্স, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই এইচডিএমআই পোর্ট কতটি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। ইউএসবি পোর্টের সংখ্যাও বিবেচনা করা উচিত। যারা গেমিংয়ের জন্য টিভি কিনছেন, তারা এইচডিএমআই ২.১-এর মতো আধুনিক সংযোগ সুবিধা প্রয়োজন কি-না, সেটিও যাচাই করতে পারেন।
ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ
স্মার্ট টিভির বড় সুবিধা হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখা। তাই টিভিতে ভালো ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই থাকলে অনেক ক্ষেত্রে 2.4GHz ও ৫GHz নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়। ব্লুটু থাকলে ওয়্যারলেস হেডফোন, স্পিকার, কি-বোর্ড বা অন্যান্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস সংযোগ করা সহজ হতে পারে। ফলে কেনার আগে কানেক্টিভিটি অপশনগুলো দেখে নেওয়া ভালো।
সাউন্ড কোয়ালিটি
অনেকে টিভি কেনার সময় শুধু ছবির মানের দিকে নজর দেন, কিন্তু শব্দের মানও দেখার অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখে। টিভির স্পিকারের ক্ষমতা, ডলবি অডিও এর মতো অডিও প্রযুক্তির সাপোর্ট আছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে। যদি সিনেমা বা গান দেখার ক্ষেত্রে উন্নত শব্দের অভিজ্ঞতা চান, তাহলে ভবিষ্যতে সাউন্ডবার বা হোম থিয়েটার ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে টিভিতে প্রয়োজনীয় অডিও আউটপুট রয়েছে কি না দেখে নেওয়া উচিত।
রিমোট কন্ট্রোল ও ভয়েস কন্ট্রোল
স্মার্ট টিভির রিমোটও ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় গুরুত্বপূর্ণ। কিছু টিভিতে ভয়েস কমান্ডের সুবিধা থাকে, যার মাধ্যমে রিমোটে কথা বলে নির্দিষ্ট কনটেন্ট খোঁজা বা কিছু ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রিমোটে প্রয়োজনীয় শর্টকাট বাটন আছে কি না এবং সেটি ব্যবহার করা কতটা সহজÑ দোকানে টিভি দেখার সময় পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা
দামি ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিভি কেনার আগে ওয়ারেন্টি কত বছরের, প্যানেলের জন্য আলাদা ওয়ারেন্টি আছে কি না এবং নষ্ট হলে সার্ভিস কোথায় পাওয়া যাবেÑ এসব জেনে নিন। অপরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে কম দামে টিভি কেনার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। সম্ভব হলে অনুমোদিত বিক্রেতা বা অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে কেনা নিরাপদ হতে পারে।
বিদ্যুৎ খরচ
স্মার্ট টিভি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যবহার করা হলে বিদ্যুৎ খরচও বিবেচনায় রাখা দরকার। বড় স্ক্রিন ও বেশি উজ্জ্বলতার টিভিতে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
শুধু বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নয়
টিভি কেনার আগে অনলাইনে স্পেসিফিকেশন দেখার পাশাপাশি সম্ভব হলে সরাসরি শোরুমে গিয়ে টিভি দেখে নেওয়া ভালো। একই ভিডিও বিভিন্ন টিভিতে চালিয়ে ছবির উজ্জ্বলতা, রঙ, কনট্রাস্ট তুলনা করা যেতে পারে। এ ছাড়া অনলাইনে ব্যবহারকারীদের রিভিউ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু একটি বা দুটি রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা ভালো।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন এখন আর শুধু অনুষ্ঠান দেখার যন্ত্র নয়। সিনেমা, নাটক, খেলা কিংবা খবর দেখার পাশাপাশি স্মার্ট টিভির মাধ্যমে ইউটিউব, বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, গান, গেমিং এবং ইন্টারনেটভিত্তিক নানা সেবা উপভোগ করা যায়। ফলে ঘরের বিনোদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হয়ে উঠেছে স্মার্ট টিভি। বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল, স্ক্রিন সাইজ ও দামের অসংখ্য স্মার্ট টিভি পাওয়া যায়। একই আকারের দুটি টিভির দামেও বেশ পার্থক্য থাকতে পারে। তাই শুধু বড় স্ক্রিন বা কম দাম দেখে টিভি কেনা ঠিক নয়। কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করলে আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক টিভি বেছে নেওয়া সহজ হবে।
স্মার্ট টিভি কেনার সময় প্রথমেই ভাবতে হবে স্ক্রিনের আকার নিয়ে। ঘরের আকার এবং টিভি দেখার দূরত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিন নির্বাচন করা উচিত। ছোট ঘরের জন্য ৩২ বা ৪৩ ইঞ্চির টিভি যথেষ্ট হতে পারে। তুলনামূলক বড় ঘর বা দূর থেকে দেখার ক্ষেত্রে ৫০, ৫৫ কিংবা ৬৫ ইঞ্চির স্ক্রিন বেশি উপযোগী। শুধু বড় স্ক্রিন মানেই ভালোÑ এমন ধারণা ঠিক নয়। খুব কাছ থেকে বড় স্ক্রিন দেখলে চোখে অস্বস্তি হতে পারে। আবার বড় ঘরে ছোট স্ক্রিন ব্যবহার করলে দেখার আনন্দ কমে যেতে পারে। তাই কেনার আগে টিভিটি কোথায় বসানো হবে এবং সাধারণত কত দূর থেকে দেখা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
রেজল্যুশন কত হওয়া উচিত
ছবির মান নির্ধারণে রেজল্যুশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে এইচডি, ফুল এইচডি এবং ফোরকে আল্টা এইচডি রেজল্যুশনের টিভি পাওয়া যায়। বড় স্ক্রিনের ক্ষেত্রে ফোরকে রেজল্যুশন নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে ছবিতে বেশি ডিটেইল ও স্বচ্ছতা পাওয়া যায়।
তবে শুধু ফোরকে লেখা থাকলেই ছবির মান অসাধারণ হবেÑ এমন নয়। ডিসপ্লের মান, প্রসেসর, এইচডিআর এবং প্যানেলের প্রযুক্তিও ছবির গুণমানের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই টিভি কেনার সময় এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এলইডি, কিউএলইডি নাকি ওএলইডি?বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তির টিভি বাজারে রয়েছে। সাধারণ এলইডি টিভি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভালো। কিউএলইডি প্রযুক্তির টিভিতে উজ্জ্বলতা ও রঙের মান উন্নত হতে পারে। অন্যদিকে ওএলইডি টিভি সাধারণত গভীর কালো, উচ্চ কনট্রাস্ট এবং উন্নত ছবির অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তবে উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তির সঙ্গে দামও বাড়তে পারে। তাই নিজের বাজেট ও ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করা উচিত।
রিফ্রেশ রেট বিবেচনা করুন
টিভির রিফ্রেশ রেট সাধারণত এইচজেট দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ৬০ এইচজেট সাধারণ টেলিভিশন দেখা, ইউটিউব বা সিনেমার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে খেলাধুলা, দ্রুতগতির ভিডিও কিংবা গেমিংয়ের ক্ষেত্রে বেশি রিফ্রেশ রেট সুবিধা দিতে পারে।
এইচডিআর সাপোর্ট আছে কি না দেখুন
এইচডিআর ছবির উজ্জ্বল ও অন্ধকার অংশের মধ্যে বেশি পার্থক্য এবং উন্নত রঙ প্রদর্শনে সাহায্য করতে পারে। এইচডিআর টেন, এইচডিআর টেন প্লাস কিংবা ডলবি ভিশন -এর মতো প্রযুক্তি বিভিন্ন টিভিতে দেখা যায়। তবে এইচডিআর সাপোর্ট থাকলেই সব কনটেন্টের সুবিধা পাওয়া যাবে না। কনটেন্ট ও স্ট্রিমিং সার্ভিসেও এইচডিআর দেখা যায়। তাই টিভি কেনার আগে কোন কোন এইচডিআর ফরম্যাট দেখা যায় কি না সেটি দেখে নেওয়া ভালো।
অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ
স্মার্ট টিভির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ এর অপারেটিং সিস্টেম। গুগল টিভি বা অ্যান্ড্রয়েড টিভি বিভিন্ন প্লাটফর্মের স্মার্ট টিভি বাজারে পাওয়া যায়। কেনার আগে দেখে নিন আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ওই প্লাটফর্মে পাওয়া যায় কি না। টিভির ইউজার ইন্টারফেস কতটা সহজ, অ্যাপ চালু হতে কতটা সময় লাগে এবং ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি নাÑ এসবও লক্ষ্য রাখা উচিত।
র্যাম ও স্টোরেজ
স্মার্ট টিভিতে র্যাম ও স্টোরেজও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত র্যাম থাকলে অ্যাপ চালানো ও একাধিক কাজের ক্ষেত্রে টিভি তুলনামূলক স্মুথভাবে কাজ করতে পারে। স্টোরেজ কম হলে বেশি অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে শুধু স্টোরেজের সংখ্যা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। টিভির প্রসেসর, অপারেটিং সিস্টেমের অপ্টিমাইজেশন এবং সফটওয়্যারও পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে।
এইচডিএমআই ও ইউএসবি পোর্ট
টিভিতে ভবিষ্যতে গেম কনসোল, সাউন্ডবার, সেট-টপ বক্স, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই এইচডিএমআই পোর্ট কতটি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। ইউএসবি পোর্টের সংখ্যাও বিবেচনা করা উচিত। যারা গেমিংয়ের জন্য টিভি কিনছেন, তারা এইচডিএমআই ২.১-এর মতো আধুনিক সংযোগ সুবিধা প্রয়োজন কি-না, সেটিও যাচাই করতে পারেন।
ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ
স্মার্ট টিভির বড় সুবিধা হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখা। তাই টিভিতে ভালো ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই থাকলে অনেক ক্ষেত্রে 2.4GHz ও ৫GHz নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়। ব্লুটু থাকলে ওয়্যারলেস হেডফোন, স্পিকার, কি-বোর্ড বা অন্যান্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস সংযোগ করা সহজ হতে পারে। ফলে কেনার আগে কানেক্টিভিটি অপশনগুলো দেখে নেওয়া ভালো।
সাউন্ড কোয়ালিটি
অনেকে টিভি কেনার সময় শুধু ছবির মানের দিকে নজর দেন, কিন্তু শব্দের মানও দেখার অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখে। টিভির স্পিকারের ক্ষমতা, ডলবি অডিও এর মতো অডিও প্রযুক্তির সাপোর্ট আছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে। যদি সিনেমা বা গান দেখার ক্ষেত্রে উন্নত শব্দের অভিজ্ঞতা চান, তাহলে ভবিষ্যতে সাউন্ডবার বা হোম থিয়েটার ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে টিভিতে প্রয়োজনীয় অডিও আউটপুট রয়েছে কি না দেখে নেওয়া উচিত।
রিমোট কন্ট্রোল ও ভয়েস কন্ট্রোল
স্মার্ট টিভির রিমোটও ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় গুরুত্বপূর্ণ। কিছু টিভিতে ভয়েস কমান্ডের সুবিধা থাকে, যার মাধ্যমে রিমোটে কথা বলে নির্দিষ্ট কনটেন্ট খোঁজা বা কিছু ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রিমোটে প্রয়োজনীয় শর্টকাট বাটন আছে কি না এবং সেটি ব্যবহার করা কতটা সহজÑ দোকানে টিভি দেখার সময় পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা
দামি ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিভি কেনার আগে ওয়ারেন্টি কত বছরের, প্যানেলের জন্য আলাদা ওয়ারেন্টি আছে কি না এবং নষ্ট হলে সার্ভিস কোথায় পাওয়া যাবেÑ এসব জেনে নিন। অপরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে কম দামে টিভি কেনার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। সম্ভব হলে অনুমোদিত বিক্রেতা বা অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে কেনা নিরাপদ হতে পারে।
বিদ্যুৎ খরচ
স্মার্ট টিভি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যবহার করা হলে বিদ্যুৎ খরচও বিবেচনায় রাখা দরকার। বড় স্ক্রিন ও বেশি উজ্জ্বলতার টিভিতে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
শুধু বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নয়
টিভি কেনার আগে অনলাইনে স্পেসিফিকেশন দেখার পাশাপাশি সম্ভব হলে সরাসরি শোরুমে গিয়ে টিভি দেখে নেওয়া ভালো। একই ভিডিও বিভিন্ন টিভিতে চালিয়ে ছবির উজ্জ্বলতা, রঙ, কনট্রাস্ট তুলনা করা যেতে পারে। এ ছাড়া অনলাইনে ব্যবহারকারীদের রিভিউ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু একটি বা দুটি রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা ভালো।

আপনার মতামত লিখুন