ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
আগামীর আলো

রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?


প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬

রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?
রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?

রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় অসুস্থতার প্রয়োজনে চোখ, কান বা নাকে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় আমরা দ্বিধায় ভুগি যে এতে রোজা ভেঙে যাবে কি না। ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই মাসআলাগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

চোখে ড্রপ, মলম বা সুরমা ব্যবহারের বিধান

ইসলামি ফকিহদের মতে, রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ, মলম বা অঞ্জন (সুরমা) ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। চোখের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি কোনো পথ নেই। এটি পানাহারের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর মাধ্যমে পানাহারের উদ্দেশ্যও সফল হয় না। চোখে ড্রপ দেওয়ার পর যদি গলায় ওষুধের স্বাদ অনুভূত হয়, তবু রোজা ভাঙবে না। কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং তা সরাসরি খাদ্যনালি দিয়ে প্রবেশ করে না।

এ ছাড়া চোখে কাজল, সুরমা বা কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।


কানে ড্রপ দিলে কি রোজা ভেঙে যায়?

কানে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানের পর্দার অবস্থা বিবেচনা করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় কানে ড্রপ দিলে বা গোসলের সময় পানি ঢুকলে রোজা ভাঙে না। কারণ কানের ছিদ্র দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে কোনো কিছু যাওয়ার পথ নেই।

তবে কারও যদি কানের পর্দা ফাটা থাকে এবং ড্রপ বা তেল ব্যবহারের ফলে তা ছিদ্র দিয়ে গলার ভেতরে চলে যায়, তবে নিশ্চিতভাবে রোজা ভেঙে যাবে।

নাকে ড্রপ ব্যবহারের বিধান ও সতর্কতা

নাক ও গলার সংযোগস্থল খুবই সংবেদনশীল। তাই নাকে ড্রপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নাকে ড্রপ বা তরল ওষুধ ব্যবহার করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। নাকে ড্রপ দেওয়ার পর যদি ওষুধের স্বাদ বা তরল গলার ভেতরে চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে।

একান্ত জরুরি না হলে রোজা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে ইফতারের পর এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

আগামীর আলো

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় অসুস্থতার প্রয়োজনে চোখ, কান বা নাকে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় আমরা দ্বিধায় ভুগি যে এতে রোজা ভেঙে যাবে কি না। ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই মাসআলাগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

চোখে ড্রপ, মলম বা সুরমা ব্যবহারের বিধান

ইসলামি ফকিহদের মতে, রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ, মলম বা অঞ্জন (সুরমা) ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। চোখের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি কোনো পথ নেই। এটি পানাহারের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর মাধ্যমে পানাহারের উদ্দেশ্যও সফল হয় না। চোখে ড্রপ দেওয়ার পর যদি গলায় ওষুধের স্বাদ অনুভূত হয়, তবু রোজা ভাঙবে না। কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং তা সরাসরি খাদ্যনালি দিয়ে প্রবেশ করে না।

এ ছাড়া চোখে কাজল, সুরমা বা কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।


কানে ড্রপ দিলে কি রোজা ভেঙে যায়?

কানে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানের পর্দার অবস্থা বিবেচনা করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় কানে ড্রপ দিলে বা গোসলের সময় পানি ঢুকলে রোজা ভাঙে না। কারণ কানের ছিদ্র দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে কোনো কিছু যাওয়ার পথ নেই।

তবে কারও যদি কানের পর্দা ফাটা থাকে এবং ড্রপ বা তেল ব্যবহারের ফলে তা ছিদ্র দিয়ে গলার ভেতরে চলে যায়, তবে নিশ্চিতভাবে রোজা ভেঙে যাবে।

নাকে ড্রপ ব্যবহারের বিধান ও সতর্কতা

নাক ও গলার সংযোগস্থল খুবই সংবেদনশীল। তাই নাকে ড্রপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নাকে ড্রপ বা তরল ওষুধ ব্যবহার করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। নাকে ড্রপ দেওয়ার পর যদি ওষুধের স্বাদ বা তরল গলার ভেতরে চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে।

একান্ত জরুরি না হলে রোজা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে ইফতারের পর এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।


আগামীর আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: আসাদুজ্জামান
কপিরাইট © ২০২৫ আগামীর আলো