ঢাকা    সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
আগামীর আলো

সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত যেখানে

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে আর জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে বিরোধী দল হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোট। হিসাব অনুযায়ী, সরকারের বয়স এখন মাত্র দেড় মাস। এরমধ্যেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের উত্তাপ গড়াচ্ছে রাজপথে। গণভোটের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোট।বিরোধী দল বলছে, সংবিধান সংস্কারে দেশের জনগণ জুলাই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার না করে তাদের পছন্দমতো কিছু বিষয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি জনরায়কে উপেক্ষা করা। এ কারণে ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি দিতে ৭ এপ্রিল বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।এদিকে সরকারি দল বিএনপি বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ অস্তিত্বহীন। এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন জরুরি। এজন্য সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হবে। রোববারের মধ্যেই গঠন করা হবে এ কমিটি।অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশের ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে গণভোট আয়োজন করেছে, বৃহস্পতিবার সেই অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ অবস্থায় গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে। কেউ কেউ এও বলছেন, অধ্যাদেশ বাতিল হলে পুরো গণভোট অবৈধ হয়ে যাবে।এদিকে ৩ মার্চ গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এতে সবকিছু মিলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে-এমনটিই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, গণভোট অধ্যাদেশটি বাতিলের জন্য সংসদীয় কমিটি সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। এখন অধ্যাদেশটি ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, শুরুতেই অধ্যাদেশটি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কারণ, এতে এমন কিছু আছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না।তবে ব্যারিস্টার আহসানুল করিম যুগান্তরকে বলেন, অধ্যাদেশটি বাতিলের সুপারিশের মানে হলো-এটি আর আইনে রূপ নেবে না। তবে গণভোট অধ্যাদেশটি আইনে রূপ না নিলেও গণভোট বাতিল হবে না। কারণ, ওই অধ্যাদেশের অধীনে ইতোমধ্যে গণভোট হয়ে গেছে। আর এটি আইনে রূপ নেওয়ার মানে হলো-ভবিষ্যতে এই আইনের মাধ্যমে মানুষের জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করা। কিন্তু সেটির আর প্রয়োজন নেই।প্রসঙ্গত, জুলাই জতীয় সনদ বাস্তবায়নে ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ওই আদেশের ওপর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আদেশে বলা হয়, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হবেন। সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অধিবেশন ডাকা হয়নি।এ কারণে সংসদের বাইরেও রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। অর্থাৎ, ৬৮ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটে আদেশটি অনুমোদিত হয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করা হলে কী হবে, তা আদেশে বলা নেই। এতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হয়তো আদালতের মাধ্যমে সুরাহা হতে হবে।রাজপথে বিরোধী দল : গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট। উল্লেখযোগ্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি অন্যতম।শনিবার বিকাল ৫টায় তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার সংসদে গণভোটের সমাধান না করলে ১১ দলের উদ্যোগে আন্দোলন চলবে।বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করবে বিরোধী দল। একই সঙ্গে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হবে। এরপরও সরকার জনমতকে উপেক্ষা করলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বিরোধী দল। তিনি বলেন, সরকারি দল গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা। এর মাধ্যমে যে প্রতিশ্রুতির আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও নির্বাচন হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা হয়েছে। জাতিকে অপমান এবং প্রতারণাও করা হয়েছে।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃত্ববাদ, স্বৈরাচার তৈরির রাস্তা উন্মুক্ত করে গেছে। সেই রাস্তায় শেখ হাসিনা সাংবিধানিক স্বৈরাচার হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই রাস্তায় হাঁটছে। এটা ভুল পথ। সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই করতে হবে। সংস্কার করতে হলে গণভোট মানতে হবে। সেজন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিরোধী দলের আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী রাস্তায় হাঁটছে।সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে সরকার সংবিধানে শুধু তাদের মনমতো কিছু সংশোধনী আনতে চায়। অথচ জুলাই সনদের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ রায় দিয়েছে। সেটা মানতে সবাই বাধ্য। বিএনপিসহ আমরা সেই অঙ্গীকার করেছিলাম এবং তা সংসদেই সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে এখন সেটা থেকে সুস্পষ্টভাবে সরে এসেছে। তাই রাজপথের আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা জনগণকে অপমান করা এবং রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন মহান সংসদের এখতিয়ার এবং একটি নিয়মিত কাজ। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সংসদে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আরোপিত আদেশ একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ১৩ নভেম্বর জারি করা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে তিনি বলেন, অস্তিত্বহীন একটি পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথের ফর্ম সংসদে পাঠানোর এখতিয়ার রাখেন না। তিনি সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নিয়ে নিজেই তা ভঙ্গ করেছেন। বিএনপির দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, সারা দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কার চায় না। কিন্তু আমরা ঐতিহাসিকভাবে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য ধারণ করি।জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা দুটি দায়িত্ব পালন করবেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, ১৮০ কার্যদিবস তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে কাজ করবেন। এরপর তারা নিয়মিত আইনসভার সদস্য হিসাবে কাজ করবেন। এজন্য তাদের দুটি শপথ নিতে হবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের মাধ্যমে জুলাই আদেশ পাশ হয়েছে।

মেসি এখনও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়: রোনালদিনিও

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রেতারা যদি জ্বালানি তেল ক্রয়ে এখনই সংযত না হন, তবে আগামী ১০ দিন পর পাম্পগুলোতে কোনো তেল অবশিষ্ট থাকবে না।শুক্রবার (২৭ মার্চ) মালিক সমিতি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

বিশ্বসেরা গ্রী এসির দাম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রেতারা যদি জ্বালানি তেল ক্রয়ে এখনই সংযত না হন, তবে আগামী ১০ দিন পর পাম্পগুলোতে কোনো তেল অবশিষ্ট থাকবে না।শুক্রবার (২৭ মার্চ) মালিক সমিতি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

নগদে চাকরির সুযোগ, সপ্তাহে ছুটি ২দিন

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রেতারা যদি জ্বালানি তেল ক্রয়ে এখনই সংযত না হন, তবে আগামী ১০ দিন পর পাম্পগুলোতে কোনো তেল অবশিষ্ট থাকবে না।শুক্রবার (২৭ মার্চ) মালিক সমিতি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ

প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এখন থেকে গাড়িতে ৩০% জ্বালানি কম নেবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রিসভা বৈঠক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে। এতে আরও বলা হয়, সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।ভূমি অধিগ্রহণ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মেসি এখনও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়: রোনালদিনিও

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলার সময় ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনিও তার ফুটবল উত্তরাধিকার যেন তুলে দিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসির হাতে—যিনি পরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন। সর্বকালের সেরা নিয়ে আলোচনায় আরও একাধিক ফুটবলারের নামও আসলেও রোনালদিনিওর মতে এখনও সবার ওপরে আছেন মেসিই।বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রচারণা ও ব্যক্তিগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন রোনালদিনিও। সেখানে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বকাপ, মেজর লিগ সকার (এমএলএস) এবং মেসিকে নিয়ে নিজের ভাবনা শেয়ার করেছেন।বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি, যা একসময় রোনালদিনিওর ছিল, পরে মেসির গায়ে ওঠে এবং এখন তা আছে তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালের দখলে। রোনালদিনিওর মতে, ইয়ামাল খুব অল্প বয়সেই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেরাদের একজন হতে পারে। তবে মেসিই এখনও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।মিয়ামিতে অবস্থান করলেও ব্যস্ততার কারণে মেসির সঙ্গে নিয়মিত দেখা হয় না বলে জানান রোনালদিনিও। তবে সুযোগ পেলেই তারা একসঙ্গে সময় কাটান। আসন্ন বিশ্বকাপে মেসি যেন পুরোপুরি ফিট থেকে ভালো খেলতে পারেন—এটাই তার প্রত্যাশা।বার্সেলোনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লাবটি এখনও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং সবসময় আকর্ষণীয় ফুটবল খেলতে চায়। পাশাপাশি এমএলএস নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন তিনি—তার মতে, লিগটির মান ও জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও রোনালদিনিও মনে করেন, তার দেশ ব্রাজিলসহ সব দলই শক্তিশালী। তাই এবারের বিশ্বকাপ হবে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয়।

সব বিভাগের খবর

১১-দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১-দলীয় জোট। আগামী ৪ এপ্রিল রাজধানীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে জোটটি।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে সরকার শুধু সংবিধানের সংশোধনী আনতে চায়। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে৷’হামিদুর রহমান বলেন, ‘১১ দলের আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই৷ শনিবার বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ১১ দল।’এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জোটের শীর্ষ নেতাদের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।

সেদিন সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলা’ নিয়ে ঠিক কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া

বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল বা ‘ছুড়ে ফেলা’ নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুরোনো একটি বক্তব্য। বিশেষ করে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের দাবি—খালেদা জিয়াও নাকি এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। বস্তুত তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও ভাষ্য নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা।সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দল ও তরুণ নেতাদের পক্ষ থেকে ‘বাহাত্তরের সংবিধান’ বাতিল বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।পার্থ বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলব কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় যে, এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? সংবিধান নিয়ে এত গাত্রদাহ কেন?’আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ জড়িয়ে আছে। লাখো মা বোনের সম্ভ্রম জড়িয়ে আছে। এই সংবিধানকে সামনে রেখেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’এর আগে গত ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন,  ‘জেন-জি’রা আর বাহাত্তরের সংবিধান চায় না।’পরদিন জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘যে সংবিধান খালেদা জিয়া ছুড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, সেই বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি সরকারি দলের কেন এত প্রেম জাগ্রত হলো, তা জনগণ জানতে চায়।’ এরপর মঙ্গলবার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির আরও অনেক এমপি একই সুরে কথা বলেন। তারা বিএনপিকেও প্রশ্ন করেন—যে সংবিধান খালেদা জিয়া নাকি বাতিল করতে চেয়েছিলেন, সেটির প্রতি এখন কেন সমর্থন।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কিছুক্ষণ আগে মাননীয় সংসদ সদস্য পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছেলেন- উনি যখন বললেন সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চান তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে অ্যালাইনমেন্ট করলেন; তখন সরকারি দলের মন্ত্রীরা টেবিল চাপড়ে সেটাকে সমর্থন জানালেন। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন; উনি বলেছিলেন- যখন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে; যেদিন এ পার্লমেন্ট জনতার সরকারের কাছ যাবে সেদিন এ সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। ট্রেজারি বেঞ্চে যে মন্ত্রীরা আছেন তারা দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এ সংবিধান ছুড়ে ফেলার সঙ্গে স্বাধীনতা ও যুদ্ধারাধীর অ্যালাইনমেন্ট করার যে হাততালি যারা দিয়েছেন- সেটার মধ্য দিয়ে তারা বেগম জিয়াকে অপমান করেছেন কিনা তারা সেটা ভেবে দেখবেন।আসলে কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে বিএনপি এই সংশোধনের বিরোধিতা করে। ওই বছরের ১৩ জুলাই এক গণঅনশন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন সংশোধনী এনেছে। আমরা বলতে চাই, এসব সংশোধনী আওয়ামী ইশতেহার। এটা জনগন মানে না। আগামী সরকার পরিবর্তনের পর এসব সংবিধান (সংশোধনী) ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে তিনি পুরো সংবিধান নয় বরং নির্দিষ্ট কিছু সংশোধনী বাতিলের কথাই উল্লেখ করেছিলেন।এ নিয়ে আওয়ামী লীগ বিতর্ক সৃষ্টি করতে থাকলে সে সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে বা গ্রহণযোগ্য নয়— খালেদা জিয়ার এ অভিপ্রায়ের অর্থ হচ্ছে তার দল ক্ষমতায় গেলে পঞ্চদশ সংশোধনী পরিবর্তন করবে।’তথ্যানুযায়ী, খালেদা জিয়া সরাসরি সংবিধান বাতিলের কথা বলেননি বরং তিনি নির্দিষ্ট সংশোধনীগুলো বাতিলের কথা বলেছেন। ফলে তার বক্তব্যকে পুরো সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলার’ আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা কতটা সঠিক—তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে বিপ্লবী পরিষদ নেতৃবৃন্দের বৈঠক

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ মাগরিব রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উপস্থিত হন এবং জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।জামায়াত আমীরের কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান নেতৃত্ব দেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য হাফেজ বায়েজিদ বোস্তামী ও সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোঃ আরিফুল ইসলাম।বৈঠকে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি জাতি গঠন প্রশ্নে ইসলামের অবদান ও বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় আধিপত্যবাদী তৎপরতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি চলমান যুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিজয় কামনা করেন। এ সময় ইরান প্রসঙ্গে তিনি কোনো সভ্যতার একেবারে পরাজিত না হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরেন।এসময় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নে ইসলামকে জাতি গঠনের কোর উপাদান উল্লেখ করেন। তিনি জামায়াত আমীরকে দেশের প্রধান ইসলামী দলের আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জাতীয় অভিভাবকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।খোমেনী ইহসান জামায়াত আমীরকে বলেন, সন্ত্রাসবাদী আইনে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময় দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ১৯৯৬ সালের পর জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল জামায়াতের জোরালো ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কাছে জাতি সকল বিরোধী দলের মধ্য ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রত্যাশ করে। এরকম উদ্যোগ নেওয়া হলে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ সাড়া দেবে।জবাবে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদকে স্বাগত জানান। তিনি নতুন এ দলটির সঙ্গে আলাপ আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান।উল্লেখ্য, মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ জুলাই গণহত্যার বিচার ও দেশ পুনর্গঠন প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে দলটি মুসলিম লীগের পর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ করল।

‘ওই যে হাঁস আপা আসছে’—এমন মন্তব্য ভীষণ পছন্দ রুমিনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি হাঁস প্রতীকে মোট ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট। রুমিন ফারহানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যোগ দিয়েছেন। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবারই তার প্রথম সংসদে যাওয়া। একাদশ সংসদে রুমিন বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। তখন একাই সংসদে ঝড় তোলেন তিনি। রুমিন ফারহানা সব সময়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে সরব। এটি তাকে ভিন্ন পরিচিতি এনে দিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক, প্রথমদিনের সংসদ অধিবেশনের অভিজ্ঞতা ও আওয়ামী লীগের মতো বড় দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। উপস্থাপক তাকে আয়রন লেডি হিসেবে আখ্যা দেন। বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আপনাকে (রুমিন) অনেক ভালোবেসেছে।রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক। ‘আমরা এটাও দেখলাম যে ১৭ বছর ধরে যেই বিএনপির হয়ে আপনি একাই ১০০টির মতো সংসদ অধিবেশনে ফাইট দিয়ে গেলেন। সেখানে আপনাকে বিএনপি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হলো এবং তারপরে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে নিজে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রমাণ করা- এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে রুমিন বলেন, আমি আপনাকে বলি, এ জয়টা আমি আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছি। আমি আল্লাহকে শুরুতে একটা কথাই বলেছি- আল্লাহ আমাকে লজ্জিত করবেন না। আপনি আমাকে অপমানিত করবেন না। কারণ আমার নিয়ত কেউ জানে না। আপনি জানেন। আমি কেন এমপি হতে চেয়েছি, জানেন? আমি তো অনেক সহজেই সংরক্ষিত কোটায় সংসদে যেতে পারতাম কিংবা বার্গেইনে গিয়ে মন্ত্রীও হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি কেন মর্যাদার লড়াই লড়ছি- এটা আল্লাহ জানেন। তাই আমি স্রষ্টার কাছে বলেছি, আপনি (আল্লাহ) আমাকে লজ্জিত করবেন না। নির্বাচনের দিন পুরোটা সময় রেজাল্ট বের হওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি অনবরত আমি দোয়া পড়েছি। পুরো ইলেকশন সময়টা আমি দোয়া পড়েছি। দরুদ পড়তাম সারাক্ষণ।রুমিন বলেন, আমি বিএনপি কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ; দলটি আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। না দেওয়ার ফলে আমি আপামর মানুষের দোয়ার অংশ হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের নারীরা বিশেষ করে যে যেই দল করেন; যে যেই মতের হন- তারা আমার জন্য দোয়া করেছেন। এ অপমানটা (আমাকে বহিষ্কার) তাদের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ভোটের আগে আমি যেখানেই যেতাম খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সখ্য হয়ে যেত। ওনাদের সঙ্গে আসলে আমার রিয়েল কানেকশন বা প্রকৃত সখ্য গড়ে উঠেছে। আমি নিজেও খুব সাধারণ এবং সে কারণেই সম্ভবত আমি খুব বড় পদ বা বড় বড় মানুষদের সঙ্গে আমি ওভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারি না। ধরুন আমি একটি শপিং মলে গেলাম- আমি হয়তো ওয়াশরুমে গেছি। যিনি ক্লিন করেন ওয়াশরুম- উনি বলছেন ওই যে হাঁস আপা আসছে। আপনার জন্য কত দোয়া করছি আপা। আমি সারা বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ।১৭ বছর নিবেদিতভাবে সার্ভিস দেওয়ার পরও বিএনপি কেন মনোনয়ন দিল না এমনকি বহিষ্কার করল—এমন প্রশ্নে রুমিন বলেন, প্রথমত এটার উত্তর আমার জানা নাই। একদম সঠিক উত্তর কেবলমাত্র যারা মনোনয়ন দিয়েছেন তারাই বলতে পারবেন। দুই হচ্ছে, আপনি শুরুতে একটি প্রশ্ন করেছিলেন যে আপনি তো অলমোস্ট একাই বিএনপিকে ১৭ বছর মিডিয়াতে অন্তত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। হয়তো অতি আবেগীয় সিদ্ধান্ত ছিল। যেটা একই সঙ্গে বিভিন্ন মানুষকে বিরক্তও করেছে। যাদের বিপক্ষে বলেছি তাদেরও হয়তো একসময় এই ভারটা অসহ্য মনে হয়েছে।‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক ওয়াইজ অ্যাক্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। আমরা সবসময় তাকে এভাবেই দেখি। উনি তো দেখেছেন কারা আমাদের (বিএনপি) জন্য ফাইট করেছেন।  তিনিই বলতে পারবেন আমি কেন বহিষ্কৃত।আপনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার যথেষ্ট স্নেহধন্য ছিলেন। আপনাকে বাদ দিয়ে দেওয়া এ রকম একটা ডিসিশন বিএনপি কেন নেবে? এমন প্রশ্নে রুমিন বলেন, এটা তো তাহলে আপনার ওয়াইজ প্রাইম মিনিস্টরকে জিজ্ঞেস করা উচিত।উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে বহিষ্কারের নিউজটা কীভাবে আসল। রুমিন বলেন, নিউজপেপারে আমি দেখেছি। ওইদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ভোরে মারা যান। আমি বিকাল ৫টার দিকে নিউজে দেখলাম যে আমি বহিষ্কৃত। যদিও তখন দলীয় এবং রাষ্ট্রীয় শোক চলছে; সাধারণত যখন শোক পালন করা হয়- তখন পারিবারিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত- এ ধরনের সিদ্ধান্ত তো দূরেই থাক ও প্রতিদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও আমরা বন্ধ রাখি। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  নতুন সংসদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন,  অভিজ্ঞতা খারাপ ছিল না। তবে আমাদের আগের সংসদগুলো যে রকম- ওয়ান থার্ড অব দ্য পিপুল বা অ্যাটলিস্ট হাফ অব দ্য পিপুল বাইরে রেখে সংসদ চলেছে; এবার আমার কাছে মনে হয়েছে- অ্যাটলিস্ট ওয়ান থার্ড অব পপুলেশনকে বাইরে রেখে এ সংসদ গঠিত হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের মতো বড় দল এবং বাম দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দুই. দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ততায় বেশ কিছু জায়গায় ছোটখাট ভুল হচ্ছিল। যেগুলো না হলে আরেকটু ভালো হতো হয়তো। কারণ এখানে বেশিরভাগই নতুন একদম ফ্রেশ  মানুষ। যারা প্রথমবারের মতো সংসদে গেছেন; অনেকে আছেন দীর্ঘ সময় সংসদের বাইরে ছিলেন; তাই আমার মনে হয়েছে সবকিছু  খাপ-খাইয়ে নিতে আরেকটু সময় লাগবে।রুমিন ফারহানা

বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে মিলল ড্রামভর্তি পেট্রোল, বিক্রি করতেন ছেলে যুবলীগ নেতা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় অবৈধভাবে মজুত করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।জানা গেছে, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু জাহান ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এরশাদুল হকের বাড়ির গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল ও তেল জব্দ করা হয়। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী আদালত এরশাদুল হকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরশাদুল হক বাড়িতে না থাকায়। তার ভাই হারুন অর রশিদ জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।অবৈধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য ড্রামে কিছু পেট্রোল রাখা ছিল। কিন্তু প্রতিবেশীদের কেউ শত্রুতা করে বিষয়টি বাড়িয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছে। প্রশাসন ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।তিনি বলেন, আমার বাবা বিএনপির রাজনীতি করেন। বড় ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বাজারে তার তেলের দোকান আছে। তবে নিজেদের মোটরসাইকেলের জন্য বসতবাড়িতে ড্রামে করে তেল সংরক্ষণ করেছেন তিনি।এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান জানান, গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত করায় ১০ হাজার জরিমানা ও তেলের ড্রাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয়েছে।

আমার এলাকায় ওয়াজ হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আমার এলাকায় ওয়াজ হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে। মাজার সংস্কৃতিতে বাধা মেনে নেওয়া হবে না।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরীসার মোড়ে আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ আব্দুল কাদির শাহ (রহ.) ৫৮তম স্বরণোউৎসব ও বার্ষিক ওরস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার। এতে সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের উপদেষ্টা আতাউর রহমান বাবুল।রুমিন ফারহানা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি, কিভাবে একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউল গানের আসরে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাউল গান যারা করে, তাদের হেনস্তা করে জেলে দেওয়া হয়েছে আমরা এগুলো দেখেছি।তিনি বলেন, আমি জানি না, আর কোনো রাজনীতিবিদ প্রতিবাদ করেছে কি না। তবে, আমি সংখ্যা ধরে ধরে প্রতিটা মাজার ভাঙার প্রতিবাদ করেছি। ঈদুল ফিতরের একদিন পরেও সিলেটে এরকম বাউল গানের আসরে ভাঙচুর করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা স্পষ্টভাবে বলেন, আমি যতদিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকব, আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে, কীর্তন যেমন হবে, বাউল গানও হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন পালন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্বও আমাদের। যারা বাউল গান ও মাজারের সঙ্গে যুক্ত তারা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ।

পদ্মায় বাসডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দুজনের মরদেহ রয়েছে। স্বজনরা এলে সেগুলো হস্তান্তর করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার চেষ্টায় বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসটির সামনে অংশ নদীর ওপরে উঠে আসে। নদীর গভীর থেকে বাসটি টেনে তুলতে শুরু করলে একে একে লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাত পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গিয়েছিল।কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নদীতে উল্টে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় বেশ কয়েকজন বের হয়ে আসতে পারেন। আর বাকি যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনী। শুরু করে উদ্ধারকাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল বাসটি। হঠাৎ এটি চলতে শুরু করে। চালক তখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। এটি পন্টুন পেরিয়ে উল্টে পদ্মায় পড়ে; সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে যায় নদীতে। ডুবন্ত বাসটি থেকে কয়েকজন সাঁতরে বের হতে পারলেও বেশির ভাগ যাত্রী আটকা পড়ে। বাসটি নদীর ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন।বাসটি দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছিল। কুষ্টিয়া থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাসটি পথে আরও যাত্রী তোলায় এতে ৪০ জনের বেশি লোকজন থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।নিহতরা হলেন—রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কের মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুরের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগবাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার চর বাকরিপাড়ার রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তাঁদের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), কালুখালী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বাসের চালক বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাড়াকোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১), কালুখালীর বেলগাছির আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা (৩৫), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়ার বাগধুনিয়া পালপাড়ার মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার খন্দকার বাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে আরমান (৭ মাস), কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার আগমাড়াই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮) এবং রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বাসচালক আরমান খান (৩১) ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাছিমার (৪০) মরদেহ রয়েছে। স্বজনরা এলে সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।

দোহারে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন

দোহার উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবকের বাম হাতের বাহুর অংশ ঝুলে পড়েছে। গুরুত্বর আহত যুবকের পরিচয় উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের রুইথা সাতভিটা গ্রামের মিজানুর রহমান(৩৫)। এ ঘটনায় রাতেই দোহার থানায় পাচঁ জনকে এজাহারনামীয় আসামী ও চারজনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় দোহার থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনা সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে। আটককৃত আসামীরা হলেন- একই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মিরাজ(২৮) ও মামুন(৩১)।আসামীদের মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল দোহার আমলি আদালতে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।স্থানীয় ও আহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল একই এলাকার শাখাওয়াত গংদের সাথে মিজানুর রহমানদের সাথে। জমির মালিকানা নিয়ে বিজ্ঞ দোহার সিনিয়র সহকারি জর্জ আদালতে আমলি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজগর আলী ছেলে শাখাওয়াত, ও তার তিন ছেলে মামুন ও মিরাজ, সিরাজ, একই গ্রামের আজর আলীর ছেলে হাবিবুর ফকির ও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিজানুরের ঘরে হামলা চালায়। এ সময়ে মিজানুরের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে এলোপাথারী কুপিয়ে বাম হাতের বাহু বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।একপর্যায়ে গুরুত্বর আহতের পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা।পরবর্তীতে দোহার থানায় ৫জনকে এজাহারনামীয় আসামী ও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের হলেই সোমবার দিবাগত গভীর রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এজাহারনামীয় ২ ও ৩ নং আসামীকে শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে এবং মামলার ২ ও ৩ নং এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তথ্য ও অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের স্বার্থে আদালতে প্রেরনকৃত ২ আসামীর ৫দিনের রিমান্ড চাইলে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পদ্মায় পড়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৩নং পন্টুনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু যাত্রী হতাহত হয়েছেন বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন সাঁতরে পাড়ে উঠেছেন। তবে অধিকাংশ যাত্রীই নদীতে তলিয়ে গেছেন। এলাকাবাসী ঘাটে জড়ো হয়েছেন। উদ্ধার কাজের জন্য ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা পৌঁছেছেন।রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল আসছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে।

এ অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে: সাবিলা নূর

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তানিম নূর পরিচালিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। মুক্তির পর থেকেই তিনি ‘চিত্রা’ চরিত্রের মাধ্যমে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন।এ সিনেমার নির্মাণ এবং মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরীসহ তারকাবহুল শিল্পীদের সমৃদ্ধ অভিনয়ের সমন্বয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস' দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমাবোদ্ধারা।ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচ সিনেমার মধ্যে সাবিলা নূরের অভিনয়েরও আলাদা করে প্রশংসা করছেন তারা। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ ‘চিত্রা’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। সাবিলা নূর বলেন, এই অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। চরিত্রটির গভীরতা ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপন নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। দর্শকরা ভীষণ খুশি।‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতোমধ্যে দর্শকদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সিনেপ্লেক্সে ঈদের অন্য চার সিনেমা ছাড়িয়ে এটি সর্বাধিক শো নিয়ে হাউসফুল দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ৩ এপ্রিল থেকে কানাডা, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডেও রিলিজ হচ্ছে।তিনি বলেন, চিত্রা আমার কাছে সবসময় বিশেষ হয়ে থাকবে। দর্শক যেভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন, তা সত্যিই অভিভূত করার মতো। এই ভালোবাসা আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।দর্শকদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, তিনি আগামীতেও ভিন্নধর্মী ও মানসম্মত কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও প্রমাণ করতে চান। সাবিলা নূর বলেন, নেহাল আমার স্বামী এবং বেস্ট ফ্রেন্ড। আমার কাজ দেখে সে ক্রিটিসাইজ করতে পছন্দ করে। সেটি আমিও এনজয় করি। তবে আমার মনে হচ্ছে— ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখে সে অন্তত এবার পুরো সিনেমা এনজয় করেছে। সেই সঙ্গে আমার একেবারে কাছের মানুষরাও পছন্দ করেছেন।নির্মাতা তানিম নূর, সহশিল্পী মোশাররফ ভাইয়া, শরিফুল রাজ থেকে শুরু থেকে সিনেমার প্রতিটি টিমের আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করতে পেরেছেন বলেও জানান সাবিলা নূর।

হাম হলে শিশুকে কী খাওয়াবেন, কোন খাবার থেকে দূরে রাখবেন

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করলেও যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বর্তমানে এই রোগে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় এবং এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ প্রকাশ পায়, যা প্রথমে মাথা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে এবং চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের জন্য সংক্রামক থাকে।হাম হলে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়:উচ্চ জ্বরনাক দিয়ে পানি পড়াকাশিচোখ লাল হয়ে যাওয়া ও পানি পড়াচ্যাপ্টা লাল ফুসকুড়ি, যা পরে একত্রে উঁচু আকার ধারণ করতে পারেহামে আক্রান্ত শিশুর খাবার কী হওয়া উচিতহাম থেকে দ্রুত সুস্থ হতে শিশুর জন্য সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগের শুরুতে ক্ষুধামান্দ্য থাকায় কমলা, লেবু ইত্যাদি ফলের রস দেওয়া যেতে পারে, যা রুচি বাড়াতে সহায়ক। পরে ধীরে ধীরে পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করতে হবে।পর্যাপ্ত তরল খাবারপানিশূন্যতা রোধে শিশুকে বেশি করে পানি, স্যুপ, ফলের রস ও কুসুম গরম তরল খাবার দিতে হবে। এগুলো শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করতে সহায়তা করে।ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবারহামের তীব্রতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।   প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারশরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিন জরুরি। এজন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন।জিংকসমৃদ্ধ খাবাররোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক কার্যকর। লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য এ ক্ষেত্রে উপকারী।ভিটামিন ‘সি’ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেনচিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারঅতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারঝাল খাবারক্যাফেইনযুক্ত পানীয়অতিরিক্ত করণীয়হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে।শিশুর অবস্থা খারাপ হলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এছাড়া খাদ্যতালিকা নিয়ে দ্বিধা থাকলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

অরিজিৎের পর প্লেব্যাক থেকে অবসর নিচ্ছেন শ্রেয়া ঘোষাল

বছরের শুরুতেই প্লেব্যাক থেকে অবসর নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী  অরিজিৎ সিং। এবার তার পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন শ্রেয়া ঘোষাল।শ্রেয়া জানিয়েছেন, তিনিও প্লেব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া বলেন, তিনি বর্তমানে বেশ ক্লান্ত অনুভব করছেন এবং ভবিষ্যতে গান থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথাও ভাবছেন। তার ভাষ্য, গানের জগতে যে পরিবর্তনগুলো আসছে, সেগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সব সময় আনন্দের নয়। বিশেষ করে লাইভ কনসার্টে ‘লিপ-সিঙ্ক’ বা যান্ত্রিক কারসাজির মাধ্যমে গান গাওয়ার প্রবণতাকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না।শ্রেয়া স্পষ্ট করে বলেন, যেদিন আমাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিপ-সিঙ্ক করে গান গাইতে হবে, সেদিনই আমি গান গাওয়া ছেড়ে দেব।     অরিজিৎের বিরতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমারও মাঝে মাঝে বিরতি নিতে ইচ্ছে করে।এর আগে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট দিয়ে প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন  অরিজিৎ। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি জানাচ্ছি যে, এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর নতুন কোনো কাজ নেব না। এই সংগীত যাত্রা অত্যন্ত চমৎকার ছিল।’

নবীজির রওজায় সবুজ গম্বুজ যেভাবে এলো

মদিনার আকাশে এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদে নববীর সেই সুপরিচিত সবুজ গম্বুজ যার নিচে শায়িত আছেন বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক হজরত মুহাম্মদ সা.। এই গম্বুজ শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি ইতিহাস, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও মুসলিম চেতনার গভীরতম আবেগের এক সমবায় প্রতীক। কিন্তু এই গম্বুজ চিরকাল এমন ছিল না, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও রঙের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি আজকের পরিচিত রূপ লাভ করেছে। ইতিহাসের প্রারম্ভে, রাসুলুল্লাহ সা. এর ইন্তেকালের পর তার রওজা মুবারক ছিল একেবারেই সরল ও অনাড়ম্বর। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকালের পর নবীজিকে দাফন করা হয় তারই ঘরে, যা ছিল তার স্ত্রী আয়েশা রা. এর কক্ষ। সেই ঘরের ওপর কোনো গম্বুজ বা স্থায়ী স্থাপত্য ছিল না। বরং খিলাফতে রাশেদার যুগে এবং পরবর্তী উমাইয়া যুগেও এটি একটি সাধারণ কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা ইসলামের সরলতা ও আড়ম্বরবিমুখতার প্রতিফলন। প্রথম বড় স্থাপত্যিক পরিবর্তন আসে ৭ম শতাব্দীর শেষভাগে, যখন উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন (প্রায় ৭০৭–৭০৯ খ্রিষ্টাব্দ)। এই সম্প্রসারণের সময় নবীজির কক্ষটিকে মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত দেয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে তখনও কোনো গম্বুজ নির্মিত হয়নি, বরং কাঠামো ছিল নিম্ন ও ছাদ ছিল সমতল। গম্বুজ নির্মাণের ইতিহাস শুরু হয় আরও পরে, মামলুক যুগে। ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মামলুক শাসক সুলতান আল-মানসুর কালাওন প্রথমবারের মতো রওজার ওপর একটি কাঠের গম্বুজ নির্মাণের নির্দেশ দেন। এই গম্বুজটি ছিল কাঠের তৈরি এবং বাইরে সীসা (lead) দিয়ে আবৃত, যাতে তা আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা পায়। এটি ছিল বর্তমান গম্বুজের পূর্বসূরি যদিও রূপে ও উপাদানে অনেকটাই ভিন্ন। 

বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে মিলল ড্রামভর্তি পেট্রোল, বিক্রি করতেন ছেলে যুবলীগ নেতা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় অবৈধভাবে মজুত করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।জানা গেছে, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু জাহান ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এরশাদুল হকের বাড়ির গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল ও তেল জব্দ করা হয়। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী আদালত এরশাদুল হকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরশাদুল হক বাড়িতে না থাকায়। তার ভাই হারুন অর রশিদ জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।অবৈধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য ড্রামে কিছু পেট্রোল রাখা ছিল। কিন্তু প্রতিবেশীদের কেউ শত্রুতা করে বিষয়টি বাড়িয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছে। প্রশাসন ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।তিনি বলেন, আমার বাবা বিএনপির রাজনীতি করেন। বড় ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বাজারে তার তেলের দোকান আছে। তবে নিজেদের মোটরসাইকেলের জন্য বসতবাড়িতে ড্রামে করে তেল সংরক্ষণ করেছেন তিনি।এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান জানান, গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত করায় ১০ হাজার জরিমানা ও তেলের ড্রাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয়েছে।

রাজধানীতে কাটেনি জ্বালানি তেলের সংকট, বেশ কয়েকটি পাম্প বন্ধ

আজও রাজধানীতে রয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। সরবরাহ সংকটে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বেশ কয়েকটি পাম্প। তেল নিতে এসে ফিরে যেতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের। তবে কার্যক্রম চালু রাখা পাম্পগুলো সরকারি নির্দেশনা মেনে তেল দিচ্ছে।তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। চালকরা বলছেন, এই ভোগান্তি নিরসনে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কেউ কেউ তেল অবৈধভাবে মজুদ করছে বলেও অভিযোগ ছিল তাদের। এদিকে, চলমান জ্বালানি সংকট লাঘবে ভারতের আসামের নুমালিগড রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে আসছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এরইমধ্যে ডিজেলের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে পাইপলাইনে করে বাংলাদেশে পৌঁছাবে এ ডিজেল। জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

কোন পোস্ট নেই !

নগদে চাকরির সুযোগ, সপ্তাহে ছুটি ২দিন

মোবাইল ফোন ভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ লিমিটেড’ তাদের ‘বিজনেস সেলস’ বিভাগে ‘কী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ২৯ মার্চ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের নাম: নগদ লিমিটেডপদের নাম: কী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারবিভাগ: বিজনেস সেলসলোকবল নিয়োগ: ১০ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিঅন্যান্য যোগ্যতা: ব্যাংক, বিনিয়োগ/মার্চেন্ট ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগে কাজের দক্ষতাঅভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৪ বছর প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়) বয়সসীমা: কমপক্ষে ২১ বছরকর্মস্থল: যেকোনো জায়গায় বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: টি/এ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সাপ্তাহিক ২দিন ছুটি, মোবাইল বিল, বিমা, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৭ এপ্রিল ২০২৬

হাসিনাসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানার তিন পৃথক হত্যা মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনটি হত্যা মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল ছিল’।নিহত তিন ব্যক্তি হলেন ট্রাকচালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনের মিস্ত্রি জাকির হোসেন এবং রমজান মিয়া জীবন, যিনি পেশায় জুতা তৈরির কারখানার একজন কর্মী।মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, চব্বিশের জুলাইয়ে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হলেও অন্য তিন ব্যক্তি আরো তিনটি মামলা করেন।পরিবারের বাইরে ওই তিন ব্যক্তির করা মামলায় দেখানো হয়েছে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর স্থান ভাটারা; মামলাও হয়েছে ভাটারা থানায়। অথচ পরিবারের করা মামলা বলছে ভিন্ন কথা।জাহাঙ্গীরের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি চব্বিশের ২১ জুলাই মারা গেছেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটব অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থানায় মামলা করেন।জাকিরের মৃত্যুর পর তার মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম মামলা করেন কদমতলী থানায়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শনিরআখড়া থেকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জাকির।আর সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের মাথায় গুলি লাগে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে মারা যান জীবন।এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি পল্টন থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।তিনটি হত্যা মামলায় সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী দিন ২ মার্চ ঠিক করেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে গুড় না খেজুর?

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ও খেজুর—দুটিই জনপ্রিয় হলেও খেজুর সাধারণত বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। কারণ খেজুরে আছে উচ্চ ফাইবার। আর খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং আজেবাজে স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।কিন্তু স্বাস্থ্যকর ডায়েট থেকে সবার আগে বাদ পড়ে চিনি। শুধু তা-ই নয়, ফিট থাকতে চিনির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করছেন বহু মানুষ। চিনি ছেড়ে অনেকেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিচ্ছেন। কেউ গুড় বা জাগেরি পাউডার মেশাচ্ছেন খাবারে। কেউ ডেজার্ট তৈরি করছেন খেজুর দিয়ে। তবে স্বাদের সঙ্গে সবসময়ে আপস করা যায় না। যদিও খাবারের স্বাদ ব্যালান্স করে লবণ-চিনিই।যাই হোক, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে এক থেকে দেড় চামচ গুড় খেতে পারেন। এর চেয়ে বেশি গুড় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তা ছাড়া ক্যালোরিও বেশি প্রবেশ করবে। যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম, তাদের জন্য গুড় খুবই উপযোগী। এ উপাদান আয়রনে ভরপুর। আর স্ন্যাকস হিসেবে খেজুর খেতে পারেন। খিদের মুখে দুটি খেজুর খেলেই পেট ভরে যায়। সুতরাং ওজন কমাতে চাইলে সকালবেলা দুটি খেজুর খাওয়াই যথেষ্ট। ওয়ার্কআউটের পর খেজুর খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার মেলে।দেখতে গেলে গুড় এবং খেজুর— দুই উপাদানই প্রাকৃতিক। কিন্তু কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা জানা বেশি দরকার। গুড় না খেজুর— কোনটি খেলে উপকার বেশি পাবেন, কে এগিয়ে?আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে, তাহলে খেজুর হোক কিংবা গুড়— দুটিই নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়। রান্নায় চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করতে পারেন। ওজন কমাতে চাইলে চিনির বদলে গুড় খাওয়া যায়। আর যারা ডায়েট মেনে পরিমাপ বুঝে খাবার খান, তারা খেজুর রাখতে পারেন। খেজুর হলো— শুকনো ফল। স্বাভাবিকভাবেই গুড়ের চেয়ে বেশি পুষ্টি রয়েছে খেজুরে।এ ছাড়া ভিটামিন বি৬, কে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার রয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। খেজুর শুধু যে ওজন কমায়, তা নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং একাধিক শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করে। ব্যালান্স ডায়েট মেনে চললে এবং পরিমাপ বুঝে খাবার খেলে গুড় ও খেজুর দুটোই খাওয়া যায়।

ঈদে সালোয়ার কামিজ কেনার আগে জেনে নিন

বাঙালি নারীর আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দময় পোশাকের কথা বললে সালোয়ার-কামিজের নাম আসে সবার আগে। উৎসবের জমকালো আয়োজন হোক কিংবা প্রতিদিনের ব্যবহারে—সালোয়ার-কামিজ সব বয়সের নারীর কাছে সমাদৃত। এখন বাজারে পোশাকের নকশা ও কাপড়ে এত বেশি বৈচিত্র্য যে সঠিকটি বেছে নেওয়া অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আপনার কেনাকাটা সহজ করতে এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই পোশাক খুঁজে পেতে আজকের এই আয়োজন।উপযুক্ত কাপড় ও নকশা নির্বাচনফ্যাশন উদ্য়োগ আর্টেমিসের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফায়জা আহমেদ রাফা বলেন, ‘সালোয়ার-কামিজ কেনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং উপলক্ষ অনুযায়ী কাপড় বেছে নিতে হবে। যেহেতু এখন খানিকটা গরম পড়ে গেছে, তাই আরামের জন্য সুতির কোনো বিকল্প নেই। ঈদে ক্যাজুয়াল আড্ডা বা ঘরোয়া আয়োজনে সুতি কামিজ আপনাকে স্নিগ্ধ রাখবে।’জর্জেট ও শিফন কাপড়গুলোও পাতলা ও হালকা হয়। গর্জিয়াস এমব্রয়ডারি কিংবা পাথরের কাজের জন্য জর্জেট সেরা। রাফা বলেন, সন্ধ্যাকালীন আয়োজনের জন্য এটি চমৎকার।এ ছাড়া ঈদে সিল্ক ও বেনারসির সালোয়ার-কামিজ কয়েক ঘণ্টার জন্য পরা যেতেই পারে। এর উজ্জ্বলতা আপনাকে আভিজাত্য এনে দেবে। যাঁরা একটু ভিন্নধর্মী এবং মার্জিত লুক পছন্দ করেন, তাঁরা সব ঋতুতে ব্যবহারের জন্য সিল্কের সালোয়ার-কামিজ বেছে নিতে পারেন।নকশা ও কারুকাজপোশাকের সৌন্দর্য বেশির ভাগ নির্ভর করে এর অলংকরণের ওপর। বর্তমানে রেশম সুতার কাজ, মিরর ওয়ার্ক ও চুমকির কাজ জনপ্রিয়। যদি কোনো মেহেদি কিংবা হলুদের অনুষ্ঠান হয়, তাহলে রাজস্থানি ‘গোটা পট্টি’র কাজ করা কামিজ বেছে নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ প্রিন্টেড কামিজের ক্ষেত্রে বাটিক, টাই-ডাই বা ব্লক প্রিন্ট সব সময় ট্রেন্ডি।শরীরের গড়ন অনুযায়ী স্টাইলফায়জা আহমেদ রাফা জানান, শারীরিক গঠন বুঝে পোশাক নির্বাচন করলে আপনার ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় দেখাবে। যেমন—পিয়ার শেপ: পাতিয়ালা সালোয়ার বা আনারকলি পরলে দেহের গঠনে ভারসাম্য আসবে এই আকৃতির মানুষের জন্য।অ্যাপল শেপ: এই আকৃতির মানুষের জন্য এ-লাইন কামিজ বা চুড়িদার উপযুক্ত; খুব বেশি কুঁচি এড়িয়ে চলাই ভালো।আওয়ার গ্লাস: প্যান্ট কাট বা স্ট্রেট কাট স্টাইলে এই গড়নের নারীদের বেশি সাবলীল দেখাবে।সালোয়ার এবং ওড়নার বৈচিত্র্যকামিজের সঙ্গে মানানসই সালোয়ার পুরো লুক বদলে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে প্যান্ট স্টাইল সালোয়ার এবং পালাজো আধুনিক নারীর প্রথম পছন্দ। এ ছাড়া চিরায়ত চুড়িদার তো রয়েছেই। পোশাকের পূর্ণতা আসে ওড়নায়। এক কাঁধে ওড়না রাখা বা দুই কাঁধ দিয়ে পেঁচিয়ে পরার ধরনেও আনা যায় ভিন্নতার ছোঁয়া।যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণদামি সালোয়ার-কামিজ দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সঠিক যত্ন চাই। সুতির পোশাক ঘরে ধোয়া গেলেও সিল্ক, কাতান কিংবা ভারী কাজের কামিজ ড্রাই ক্লিন করা উচিত। কড়া রোদে কাপড় না শুকিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নেওয়া ভালো। তবে আলমারিতে রাখার সময় সুতির ব্যাগে ভরে নিলে কাপড়ের মান ও কাজ নষ্ট হয় না।কেনাকাটার টিপসঅনলাইনে বা অফলাইনে কেনার সময় আগে একটি বাজেট নির্ধারণ করুন। পোশাকের ফিটিং যেন খুব বেশি ঢিলেঢালা বা আঁটসাঁট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। উৎসবের কেনাকাটায় রঙের ক্ষেত্রে প্যাস্টেল শেড কিংবা উজ্জ্বল রঙের সমন্বয় বেছে নিতে পারেন।সালোয়ার-কামিজের উৎপত্তি মূলত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পোশাক-সংস্কৃতি থেকে। মোগল আমলে এটি ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মোগল শাসনের সময় রাজকীয় দরবার ও অভিজাত সমাজে এই পোশাক জনপ্রিয় হয়। পরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। সালোয়ার-কামিজ এখন বাংলাদেশের নারীদের অন্যতম প্রধান পোশাক।

ওজন কমানোর গোপন কৌশল জেনে নিন

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবার আগে পর্যাপ্ত ঘুম। শুধু তাই নয়; এই ঘুমই হচ্ছে আপনার শরীরের জন্য একটি 'গোপন অস্ত্র'। ব্যায়াম ও সুষম খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঠিকমতো ঘুমানো ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে থাকে। আর ব্যায়াম ও ডায়েট করেও ওজন না কমার কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের অভাব।তাই বলা যায়— ওজন কমানোর গোপন অস্ত্র হতে পারে  আপনার ঘুম। ওজন কমাতে গেলে সবচেয়ে বেশি ভাবি— কী খাচ্ছি, কতটা ব্যায়াম করছি। ক্যালোরি কাউন্ট করি, জিমে ঘাম ঝরাই এবং ডায়েট চার্ট মেনে চলি। তারপরও ওজন কমার এই সমীকরণে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ বারবার উপেক্ষিত থেকে যায়— সেটি হলো ঘুম।এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি ঘুম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়, ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং ক্যালোরি জমা হতে থাকে চর্বি হিসেবে। আর ঘুমের ঘাটতি শরীরে ‘লেপটিন’ ও ‘ঘ্রেলিন’ নামক দুটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ‘লেপটিন’ হলো পেট ভরার হরমোন— এটি মস্তিষ্ককে বলে যে খাবার যথেষ্ট হয়েছে। ‘ঘ্রেলিন’ হলো— ক্ষুধার হরমোন—এটি বলে যে আরও খাবার দাও। ঘুম কম হলে লেপটিনের মাত্রা কমে যায় এবং ঘ্রেলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, বিশেষ করে শর্করা ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের তুলনায় যারা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ঘুমান- তারা দিনে গড়ে ২০০-৩০০ ক্যালোরি বেশি খান। এই অতিরিক্ত ক্যালোরি শুধু খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরের ‘রেস্টিং মেটাবলিক রেট’কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ শরীর কম ক্যালোরি খরচ করে থাকে। ফলে খাওয়া খাবার শক্তি হিসেবে ব্যবহার না হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। বিশেষ করে রাতের খাবার দেরি করে খেলে বা রাতে কম ঘুম হলে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়।ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও যদি ঘুমের গুণগত মান খারাপ হয় তাহলে হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়। অনেকে নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম করেও ওজন কমতে দেখেন না— এর পেছনে প্রায়ই ঘুমের ঘাটতি থাকে।নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের হরমোন আরও বেশি বিকৃত হয়। ঘুমের অভ্যাস যেভাবে ঠিক করা যায়প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।ক্যাফিনযুক্ত পানীয় বিকালের পর এড়িয়ে চলা উচিত। আর নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। তবে ঘুমের তিন-চার ঘণ্টা আগে নয়। ঘুমের অভ্যাস ঠিক করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া সহজ হয়। ঘুম কম হলে শরীর ক্যালোরি জমিয়ে রাখার প্রবণতা তৈরি করে। ভালো ঘুম হলে ‘লেপটিন’ ও ‘ঘ্রেলিন’য়ের ভারসাম্য ঠিক থাকে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে। সুতরাং ওজন কমানোর লড়াইয়ে খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি ঘুমকে প্রাধান্য দিতেই হবে। সাত থেকে নয় ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম— এটি ওজন কমানোর একটি গোপন অস্ত্র।

স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?

পবিত্র রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে প্রতিটি আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শারীরিক বিষয় নিয়ে আমরা সংশয়ে ভুগি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া। অনেকে মনে করেন দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায়, আবার কেউ কেউ একে রোজা ভাঙার কারণ মনে করে ইফতারের আগেই পানাহার শুরু করেন। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই মাসআলাটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?ইসলামি আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এর কারণ হলো, স্বপ্নদোষ মানুষের ইচ্ছাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে কোনো কাজা বা কাফফারা আদায় করতে হবে না।হাদিস শরিফে এসেছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়—বমি, শিঙা লাগানো ও স্বপ্নদোষ।’ (সুনানে বায়হাকি, শুআবুল ইমান)স্বপ্নদোষের এই বিধান পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। নারীদের স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ভাঙবে না।স্বপ্নদোষ হওয়ার পর করণীয়যদি রোজা রাখা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয়, তবে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে পানাহার করা যাবে না। বরং পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাকি সময় রোজা পূর্ণ করতে হবে। স্বপ্নদোষ হওয়ার পর দ্রুত ফরজ গোসল করে নেওয়া জরুরি, যাতে নামাজের সময় পার না হয়।ফরজ গোসল করার সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন গলার ভেতরে পানি চলে না যায়।রোজা ভঙ্গের মূল কারণসমূহমনে রাখতে হবে, রোজা মূলত তিনটি মৌলিক কারণে ভেঙে যায়: ১. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু খাওয়া। ২. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু পান করা। ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করা। আর স্বপ্নদোষ যেহেতু অনিচ্ছাকৃত, তাই এটি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।